বিশেষ প্রতিবেদন: প্রত্যেক সফল মানুষের সফলতার নেপথ্যে থাকে এক অদম্য লড়াইয়ের কাহিনি। শুধু তাই নয়, চলার পথে আসা সমস্ত প্রতিকূলতাক ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে প্রতিহত করে তাঁরা এগিয়ে চলেন লক্ষ্যপূরণের দিকে। আর এইভাবেই তাঁরা রচনা করেন সাফল্যের কাহিনির (Success Story)। যা উদ্বুদ্ধ করে প্রত্যেককে। বর্তমান প্রতিবেদনেও আজ আমরা ঠিক সেইরকমই এক লড়াকু ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করাবো। যাঁর নাম রাজ যাদব। অভাব এবং দারিদ্রতার বাধা টপকে নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে অবিচল থেকে রাজ যেভাবে লড়াই করেছেন তা অবাক করবে সবাইকে।
চমকে দেবে রাজ্যের সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার এক ছোট্ট গ্রামের দরিদ্র পরিবারে রাজ যাদব জন্মেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্রকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর বাবা চাষাবাদ করতেন। সেই সঙ্গে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান ছিল। অভাবের সংসারে দু’মুঠো খাবারের জন্যও করতে হত লড়াই। একটা সময়ে মাঠে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে রাজকে।

তিনি ছোটবেলা থেকেই মাটির উর্বরতা হ্রাস ও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তখন থেকেই কৃষকদের কষ্ট লাঘব করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ এটাও উপলব্ধি করেন, জ্ঞানই একমাত্র শক্তি যেটি তাঁকে বদলে দিতে পারে। দারিদ্রতার মধ্যে থেকেও তিনি পড়াশোনাকেই বেছে নিয়েছিলেন একমাত্র অবলম্বনে হিসেবে। অন্যেরা যখন অযথা সময় অতিবাহিত করত রাজ তখন ছোটখাটো কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর তাঁর জীবন বদলে যায়। পরবর্তীকালে কম্পিউটার সাইন্সে বিটেক করে তিনি তাঁর গ্রামের প্রথম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Success Story) হিসেবে বিবেচিত হন।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে আর নয় Dream 11, এবারে থাকবে কার নাম? তালিকায় একাধিক বড় সংস্থা
এদিকে, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধানে রাজ পাড়ি দেন দিল্লিতে। সেখানে একটি ছোট্ট আইটি কোম্পানিতে ৩,০০০ টাকার বেতনে চাকরির সুযোগ পান তিনি। চাকরি জীবনে কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তাঁর বেতন তিনগুণ বাড়িয়ে (Success Story) নেন। এইভাবে বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি নিজস্ব কোম্পানি গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে ১.১৭ কোটি রেশন কার্ড হোল্ডারের নাম, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
২০১২ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে রাজ উত্তরপ্রদেশে কর্মসংস্থান গড়ে তোলার জন্য লখনৌতে এইট টিন পিক্সেল নামক একটি সংস্থা তৈরি করেন। এদিকে, কৃষি কাজকে লক্ষ্য করে ও কৃষকদের কষ্টের মূল্য দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামিকের। যা কৃষকদের চাষাবাদের কৃষি পণ্য, সরঞ্জাম ও পরামর্শমূলক পরিষেবা প্রদান করে থাকে। ২০২১ সালে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে, আজ গ্রামিকের আয় (Success Story) প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন: রঞ্জু দাস
















